খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ইতালির সাথে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইতালির সাথে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

ইতালির রোমে জাতিসংঘের এফএ ‘র সদর দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি

যোগফল প্রতিবেদন:
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ইতালির সাথে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে মৎস্য ও মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, সামুদ্রিক মৎস্য এবং ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

আজ ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে   মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি এবং ইতালির কৃষি, খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও বন মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি অব  স্টেট লুইজি দে'এরামো (প্রতি মন্ত্রী) (Mr. Luigi D'Eramo)-এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট খাতের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন এবং কৃষকদের মতো তারাও সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই, জলবায়ু-সহনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্য ও মৎস্য চাষ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ইতালির সাথে সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে মৎস্য, ব্লু ইকোনমি ও প্রাণিসম্পদ খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় দেশ  আগ্রহ প্রকাশ করে। এ লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ. টি. এম রকিবুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো: সাইফুল ইসলাম, ইকনমিক কাউন্সিলর মো: আল আমিন প্রমুখ।

অনলাইন ডেস্ক

লামা'র ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলে মদদের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লামা'র ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলে মদদের অভিযোগ

ছবিতে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদন | যোগফল অনলাইন :

বান্দরবানের লামা বন বিভাগে সরকারি বনাঞ্চল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটা, কাঠ পাচার এবং সরকারি বনভূমি দখলের সুযোগ করে দিতে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ ঘটনায় লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও বনভূমি দখলকারীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

নিয়ম-নীতির বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট এলাকায় অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই মূল্যবান গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে গর্জন, সেগুন, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কেটে নেওয়া কাঠের একটি অংশ সরকারি বৈধ কাগজপত্র ও চালান ছাড়াই বিভিন্ন পথে পরিবহন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে অভিযোগ পৌঁছালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে কাঠ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অনিয়মের বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আপত্তি তুললে তাকে বদলি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সঙ্গে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

বনভূমির পরিচয় ও জমি দখল নিয়ে প্রশ্ন
লামা বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি বনভূমি দখল নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের রেকর্ডভুক্ত জমির শ্রেণি, সীমানা কিংবা পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু জায়গা দখলের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি বনভূমিকে ব্যক্তি মালিকানার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ভূমি রেকর্ড, বন বিভাগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
লামা বন বিভাগের এসব অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান ও কার্যকর তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে সিএফ মিহির কুমার দো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অনিয়মে নীরব থেকেছেন—এমন দাবি নিশ্চিত করতে স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকি
অভিযোগকারীদের মতে, অবৈধভাবে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার অব্যাহত থাকলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি লামার বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, পাহাড়ি এলাকায় মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে এসব পরিবেশগত প্রভাবের মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দোর বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বনভূমির সীমানা ও রেকর্ড যাচাই এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা বা সরকারি সম্পদ দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি বনসম্পদ রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শফিকুল ইসলাম বাবু | বিশেষ প্রতিনিধি, যোগফল অনলাইন 

কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

মোঃ হাসান মাহমুদ জয় | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 

কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর অডিটোরিয়াম হলরুমে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহ-সভাপতি ও পরিচালক গোলাম রব্বানী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহ-পরিচালক ড. জিয়াউল হক ও অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল এবং কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়া।

নেতৃবৃন্দের বিশেষ আহ্বান:
সমাবেশে বক্তারা কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলার দায়িত্বশীল নেতা এবং মিডিয়া সেলকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার আহ্বান জানান। এ সময় অ্যাডভোকেট জুয়েল রানাসহ উপস্থিত সকল দায়িত্বশীলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগঠনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক মন্তব্য ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ:
বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রসঙ্গ নিয়ে বিভিন্ন রকম মন্তব্য ও মূল্যায়ন তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের চলমান সার সংকট পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন জনসমস্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন উপজেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতারা এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

জেলা সেক্রেটারি আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী এবং জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার মিডিয়া বিভাগের প্রধান  অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল  ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মোশাররফ হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক 

পুবাইলের এপি এস নিট কম্পোজিট কারখানা ২৬ সেপ্টেম্বর খুলছে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পুবাইলের এপি এস নিট কম্পোজিট কারখানা ২৬ সেপ্টেম্বর খুলছে

ছবিতে চুক্তিপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক |গাজীপুর:

গাজীপুরের পুবাইলে অবস্থিত এপি এস নিট কম্পোজিট লিমিটেডের চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও অচলাবস্থা নিরসনে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) গাজীপুর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সমঝোতা হয়। বৈঠকে DIFE-এর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিজিএমইএ প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমঝোতা অনুযায়ী, কারখানায় আগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ৭৫ জন শ্রমিককে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অবসান করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব শ্রমিকের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষের করা অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি হয়রানি বা কালো তালিকাভুক্ত না করার বিষয়েও মালিকপক্ষ সম্মত হয়েছে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
পাওনা পরিশোধ নিয়ে প্রশ্ন
চুক্তিতে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক ও স্টাফদের আর্থিক পাওনা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থের পরিমাণ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ৭৫ জন শ্রমিককে ৩০ দিনের মূল মজুরি হিসেবে নোটিশ পে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছরের চাকরির জন্য ২০ দিনের মূল মজুরি হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, কারখানার ৯ জন স্টাফের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ পে এবং প্রতি বছরের চাকরির জন্য ১৫ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অর্জিত ছুটির নগদায়নের ক্ষেত্রেও চুক্তিতে মোট প্রাপ্যের ৬০ শতাংশ অর্থ প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তির এই আর্থিক শর্তগুলো নিয়ে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম আইনের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২০-এর আওতায় ছাঁটাই ও চাকরির অবসানজনিত পাওনা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে আইনগত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বকেয়া বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত
সমঝোতা অনুযায়ী, আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের চলতি বকেয়া বেতন আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে প্রাপ্যতা অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।
ছাঁটাই হওয়া ৭৫ শ্রমিক এবং ৯ জন স্টাফের চূড়ান্ত পাওনা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। চুক্তিতে আর্থিক লেনদেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে—বিকাশ, রকেট, উপায় অথবা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে—সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাওনা পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রমাণক DIFE-এর গাজীপুর কার্যালয়ে দাখিল করার কথাও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন
ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে এপি এস নিট কম্পোজিটের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যস্থতায় কর্মসংস্থান সচল রাখা, কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং ভবিষ্যৎ শ্রম বিরোধ এড়ানোর লক্ষ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যোগফল ডেস্ক